শেয়ারবাজার কারসাজির মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। অভিযোগে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
কেন পিছিয়ে গেল তদন্ত প্রতিবেদন?
আদালতের নির্ধারিত তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি দুদক। ফলে বিচারক মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
দুদকের জিআর শাখার কর্মকর্তা আক্কাস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কী অভিযোগ রয়েছে মামলায়?
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে শেয়ারবাজারে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী তারা—
- শেয়ারবাজারে গুজব ছড়িয়েছেন।
- কৃত্রিমভাবে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি করেছেন।
- বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছেন।
- অবৈধভাবে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
- বিও (BO) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করেছেন।
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মামলার বাদী কে?
২০২৫ সালের ১৭ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় সাকিব আল হাসানসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা কারা?
সাকিব আল হাসান ছাড়াও মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
- আবুল খায়ের
- কাজী সাদিয়া হাসান
- আবুল কালাম মাদবর
- কনিকা আফরোজ
- মোহাম্মদ বাশার
- সাজেদ মাদবর
- আলেয়া বেগম
- কাজী ফুয়াদ হাসান
- কাজী ফরিদ হাসান
- জাভেদ এ. মতিন
- জাহেদ কামাল
- হুমায়ূন কবির
- তানভীর নিজাম
দুদকের তদন্তে কী তথ্য উঠে এসেছে?
দুদক সূত্রের দাবি, আসামি আবুল খায়ের তাঁর স্ত্রীর সহযোগিতায় ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত ২১ কোটি টাকার বেশি অর্থের উৎস গোপনের চেষ্টা করেছেন।
এছাড়া তদন্তে তাঁর—
- ১৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য
- ৫৪২ কোটির বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য
পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
এদিকে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ জন্য দুই সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়।
সাকিব ও দুদকের পূর্ব সম্পর্ক
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণায় দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাকিব আল হাসান।
তবে বিভিন্ন বিতর্কের পর ২০২২ সালে তাঁর সঙ্গে করা সেই চুক্তির মেয়াদ আর নবায়ন করেনি দুদক।
এরপর কী হবে?
দুদক আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এরপর আদালত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের বিষয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
শেয়ারবাজার কারসাজির মামলাটি দেশের আলোচিত আর্থিক অপরাধের অন্যতম একটি মামলা। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে এবং মামলার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর স্পষ্ট হতে পারে।
