বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উদীয়মান পেসার নাহিদ রানা চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট সিরিজে খেলতে পারছেন না। তরুণ এই গতিতারকার অনুপস্থিতি শুধু বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকেই দুর্বল করেনি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও এটি একটি বড় আক্ষেপ হয়ে থাকতে পারে।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। অথচ দলের অন্যতম সেরা পেসার নাহিদ রানা সেই সফরের অংশ হতে না পারায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নতুন ভরসা
গত দুই বছরে বাংলাদেশের টেস্ট দলে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন নাহিদ রানা। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে বল করার সক্ষমতা, ধারালো বাউন্সার এবং রিভার্স সুইং করার দক্ষতা তাঁকে দ্রুতই বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।
মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেই তিনি একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে—এমন টেস্ট ম্যাচগুলোতে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬টি উইকেট তাঁর দখলে।
অস্ট্রেলিয়া সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
অস্ট্রেলিয়ার উইকেট বরাবরই পেসারদের জন্য স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। অতিরিক্ত বাউন্স ও গতি কাজে লাগিয়ে সেখানে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ থাকে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ রানার বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় এই সফরটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারত।
বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা
নাহিদ রানার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের পেস বিভাগে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে প্রতিপক্ষের বড় জুটি ভাঙা কিংবা ম্যাচে হঠাৎ গতি এনে দেওয়ার মতো ভূমিকা পালন করতে নাহিদের মতো একজন বোলারের অভাব অনুভূত হতে পারে।
সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টেও তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
চোট ও বাংলাদেশের পেসারদের দীর্ঘ ইতিহাস
বাংলাদেশের দ্রুতগতির পেসারদের ক্যারিয়ারে চোট নতুন কোনো ঘটনা নয়।
মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ এবং ইবাদত হোসেন—তিনজনই বিভিন্ন সময়ে গুরুতর চোটে পড়েছেন। মাশরাফির টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার বহু আগেই।
ইবাদত দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন এবং ফিরে এলেও আগের গতি ও ধার পুরোপুরি ফিরে পাননি।
এমন বাস্তবতায় নাহিদ রানার চোট বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
আবার কবে মিলবে এমন সুযোগ?
বাংলাদেশ সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলেছিল ২০০৩ সালে। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষার পর আবার সেই সুযোগ এসেছে।
তাই অনেকের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে আবার কবে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাবে বাংলাদেশ? আর সেই সফরে নাহিদ রানা একই রকম ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে দলে থাকবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত।
এই কারণেই এবারের সফর মিস করাটা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আক্ষেপ হয়ে থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নাহিদকে নিয়ে আগ্রহ
নাহিদ রানার গতি ও বোলিং দক্ষতা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, তিনি নাহিদ রানাকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বোলিং করতে দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার এখন শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নাহিদ রানা বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পেসারদের একজন। তাঁর গতি, আগ্রাসী বোলিং এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। তাই অস্ট্রেলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁর অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের একটাই প্রত্যাশা—চোট কাটিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সেরাটা উপহার দেবেন এই তরুণ গতিতারকা।
