বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি আজ (মঙ্গলবার) প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে। জাতীয় সংসদ গঠিত এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী নিয়ে সুপারিশ তৈরি করা এবং পরবর্তীতে তা সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা।
আজকের বৈঠকে কমিটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, কাজের পদ্ধতি এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বৈঠকে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে সেগুলো হলো—
- কমিটির কার্যপরিকল্পনা নির্ধারণ
- সংবিধান সংশোধনের কাজের ধাপ ঠিক করা
- বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা আয়োজনের রূপরেখা
- সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ
- সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি
এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে।
কমিটির দায়িত্ব কী?
জাতীয় সংসদ গত ১৩ জুলাই ১২ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে।
কমিটির দায়িত্ব হলো—
- বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা
- প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ প্রণয়ন
- অংশীজনদের মতামত গ্রহণ
- সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়া
এরপর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপন করতে পারে।
যাদের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে
কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এর মধ্যে থাকতে পারেন—
- সংবিধান বিশেষজ্ঞ
- আইনজীবী
- শিক্ষাবিদ
- গণমাধ্যমের সম্পাদক
- নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি
- সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা
তাদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা হতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবও থাকবে আলোচনায়
বিশেষ কমিটি জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংস্কার নিয়ে যে অঙ্গীকার ছিল, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
বিরোধী দলের অবস্থান
বিশেষ কমিটি গঠনের সময় বিরোধী দল এতে সদস্য মনোনয়ন দেয়নি।
কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন এবং সংবিধান সংস্কারের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানান।
কী বলছেন কমিটির সভাপতি?
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রথম বৈঠকে মূলত কমিটির কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের মতামত নেওয়ার পর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে জমা দেওয়া হবে।
সামনে কী হতে পারে?
বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে—
- আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল প্রস্তুত করতে পারে।
- বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
- সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ভোটাভুটির মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামী দিনের আলোচনায় এটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
