ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দো শহরের আশপাশে ছড়িয়ে পড়া এই আগুনের কারণে ইতোমধ্যে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী স্পেনেও দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বোর্দোর কাছাকাছি পৌঁছেছে আগুন
রোববার বোর্দোর মেয়র থমাস কাজেনাভ জানান, দাবানল বর্তমানে শহরের বিস্তৃত নগরাঞ্চল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্র থেকে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তবে আপাতত পুরো বোর্দো শহর খালি করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
রাতভর অভিযান চালিয়ে গিরোন্দ অঞ্চলের দক্ষিণের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলটি বিশ্বখ্যাত আঙুরক্ষেত ও ওয়াইন উৎপাদনের জন্য পরিচিত।
ইউরোপজুড়ে দাবানলের ভয়াবহতা
গত এক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্স ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বড় বন অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির মাদ্রিদ, আভিলা ও ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে দাবানলের কারণে ৯০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে হাজারো কর্মীর লড়াই
গিরোন্দ অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ দমকলকর্মী, যার মধ্যে সুইজারল্যান্ডের একটি বিশেষ দলও রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানে অংশ নিয়েছেন—
- ১,৫০০ সেনাসদস্য
- প্রায় ১,২০০ পুলিশ ও জেন্ডার্ম
- উদ্ধার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা
দমকল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দাবানল এতটাই ভয়াবহ যে এটি নিজস্ব বাতাস ও ঘূর্ণাবর্ত তৈরি করছে, ফলে আগুনের গতিপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সড়ক বন্ধ, ট্যুর ডি ফ্রান্সের রুটও পরিবর্তন
শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেনগামী এ৬৩ মহাসড়কের প্রায় ৬০ কিলোমিটার অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীকে দাবানল মোকাবিলায় কাজে লাগানোর জন্য ট্যুর ডি ফ্রান্সের শেষ দিনের রুটও ১৩৩ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৮৯ কিলোমিটার করা হয়েছে।
ম্যাক্রোঁর আশ্বাস
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, সরকার প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলেও নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষ বলছে, দাবানল এখন তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
রোববার দেশটিতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন।
