জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে, সেতুর অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বিপণিবিতানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পরপরই আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে খোলা জায়গায় ছুটে যান। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জরুরি সেবা সংস্থা ও উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধার অভিযান চলছে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কুমামোতোর কাশিমা। সেখানে একটি বিপণিবিতান ধসে পড়ার পর উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অবকাঠামো
ভূমিকম্পে বহু ভবনের বাইরের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। কিছু এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ইয়াতসুশিরো শহরে একটি সেতুর অংশ ধসে পড়েছে, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও উপাসনালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিরাপদ স্থানে আশ্রয় মানুষের
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনের পর বাসিন্দারা দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে পার্ক ও খোলা স্থানে অবস্থান নেন।
পরবর্তী আফটারশকের আশঙ্কায় অনেকেই এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ঐতিহাসিক স্থাপনাও রক্ষা পায়নি
ভূমিকম্পে কুমামোতো অঞ্চলের ইয়াতসুশিরো শহরের ঐতিহাসিক শোহিনকেন উদ্যানের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকটি উপাসনালয় ও পুরোনো স্থাপনায় ফাটল এবং আংশিক ধসের খবর পাওয়া গেছে।
জরুরি সেবার তৎপরতা
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, চিকিৎসক এবং উদ্ধারকারী দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ধসে পড়া বিপণিবিতান ও অন্যান্য ভবনের সামনে জরুরি সেবার গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন
জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে জাপানে উন্নত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থাকলেও শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
