Homeবিনোদনসবচেয়ে কঠিন সময়ে কেন স্ত্রীর শান্ত সিদ্ধান্তই বেশি কার্যকর? মনোবিজ্ঞানীর ব্যাখ্যা

সবচেয়ে কঠিন সময়ে কেন স্ত্রীর শান্ত সিদ্ধান্তই বেশি কার্যকর? মনোবিজ্ঞানীর ব্যাখ্যা

অনেকেই মনে করেন দ্রুত উত্তর দেওয়া বা মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিতে পারাই বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। কিন্তু বাস্তব জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা দেখায়, সব সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া সেরা সমাধান এনে দেয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বিরতি নিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

মার্কিন মনোবিজ্ঞানী, থেরাপিস্ট ও লেখক ড. টমাস জেফরি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তাঁর স্ত্রীর শান্ত ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস তাঁকে বহু ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরিয়ে এনেছে।

দ্রুত উত্তর সব সময় সঠিক নয়

ড. জেফরির মতে, তিনি সব সময় নিজেকে দ্রুত চিন্তা করতে সক্ষম একজন মানুষ বলে মনে করতেন। প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তাঁর মাথায় উত্তর চলে আসত। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, দ্রুত উত্তর দেওয়া আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়।

তিনি বলেন, অনেক সময় তাঁর স্ত্রী কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে কিছুক্ষণ থেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রথমদিকে বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হলেও পরে বুঝেছেন, এই ছোট্ট বিরতিই অনেক ভালো সিদ্ধান্তের পথ তৈরি করে।

প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা কী?

ড. জেফরির ভাষায়, প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা শুধু জ্ঞান বা তথ্যের পরিমাণ নয়; বরং কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সেটিই আসল।

তিনি প্রাচীন স্টোয়িক দর্শনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আবেগের বশে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা একজন মানুষের বড় শক্তি।

ছোট্ট বিরতিই বদলে দিতে পারে সিদ্ধান্ত

একই ঘটনার মুখোমুখি হয়ে দুজন মানুষ ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন।

একজন সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, অন্যজন কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি অনেক সময় বেশি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে পান।

ড. জেফরির মতে, তাঁর স্ত্রী প্রায়ই একটি প্রশ্ন করেন—

“আসলে এখানে কী ঘটছে?”

এই একটি প্রশ্নই তাঁকে বহুবার আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রেখেছে।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি?

প্রাচীন দার্শনিক এপিকটিটাস বলেছিলেন,

ড. জেফরি মনে করেন, কোনো ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে যে ছোট্ট সময়টি পাওয়া যায়, সেটিই সবচেয়ে মূল্যবান। সেই সময়টুকু কাজে লাগাতে পারলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি অনেক কমে।

কী বলছেন বাংলাদেশি মনোবিজ্ঞানী?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট রাউফুন নাহার বলেন, এটি ড. জেফরির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তাই এটিকে নারী-পুরুষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

তিনি জানান, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণা নেই যা বলে নারীরা সব সময় পুরুষদের তুলনায় বেশি ধৈর্য ধরে সিদ্ধান্ত নেন।

তবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে একটু বিরতি নেওয়া বা “পজ-প্র্যাকটিস” করলে মস্তিষ্কের যৌক্তিক অংশ সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। এতে আবেগ ও যুক্তির সমন্বয়ে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

নারী ও পুরুষের প্রতিক্রিয়ায় কি পার্থক্য আছে?

রাউফুন নাহারের মতে, ব্যক্তি, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার ওপর মানুষের আচরণ নির্ভর করে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নারীরা সম্পর্ককে ধরে রাখার দিকে বেশি গুরুত্ব দেন, অন্যদিকে পুরুষরা তুলনামূলকভাবে সমস্যার ব্যবহারিক সমাধান খুঁজতে আগ্রহী হতে পারেন। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়; ব্যক্তি ভেদে আচরণ ভিন্ন হতে পারে।

আবেগ নয়, ভারসাম্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া সব সময় ভুল নয়, আবার অতিরিক্ত দেরিও সমাধান নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

একটু থেমে ভাবার অভ্যাস ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্র কিংবা দৈনন্দিন জীবনের অনেক জটিল পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ফল এনে দিতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ