Homeআন্তর্জাতিকধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চেয়েছিল মোদি সরকার, রাজি হয়নি আন্দোলনকারীরা

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চেয়েছিল মোদি সরকার, রাজি হয়নি আন্দোলনকারীরা

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সময় তাঁকে মন্ত্রিসভায় ধরে রাখতে চেয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরানো নয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পুরো মন্ত্রিসভা থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহের টানা আন্দোলনের মুখে গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালেই সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে সমঝোতার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জেন–জি তরুণেরা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি এবং পূর্ণ পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন।

সূত্রের দাবি, সিজেপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। বৈঠকে তাঁরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের দপ্তর পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরলেও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।

২০ জুলাই প্রথম দফার বৈঠকের সময় সিজেপি দিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের ডাক দেয়। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় সরকার সমঝোতার পথ খুঁজলেও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অটল থাকেন।

বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারীদের জানান, কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অপসারণ বা তাঁর দপ্তর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তবুও সিজেপি নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, তারা আপসের পথে হাঁটবে না এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সূত্র আরও জানায়, আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা ছিল, যদি পূর্ণ পদত্যাগের পরিবর্তে শুধু মন্ত্রণালয় বদলের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়, তাহলে রাজপথে থাকা হাজারো শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তাই তারা শুরু থেকেই এক দফা দাবিতে অটল ছিল।

শনিবার সরকার ও সিজেপির মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুধু দপ্তর পরিবর্তন করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দল কেউই তা মেনে নেবে না। তিনি শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

পদত্যাগের পর প্রকাশিত চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলনের সুযোগ যেন কোনো দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না পড়ে, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের পর সিজেপি দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মেন্দ্র প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ