জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, এখন থেকে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চান।
স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন।
তিনি জানান, দায়িত্বে থাকার পুরো সময়টায় ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। তবে এখন প্রতিমন্ত্রীর পদে না থেকে এসব কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইশরাক।
‘আমাকে টার্গেট করা হয়েছে’
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ নিয়ে কিছু সত্য তথ্যের সঙ্গে অতিরঞ্জিত ও কল্পিত বিষয়ও যুক্ত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
ইশরাকের ভাষ্য, তাঁকে লক্ষ্য করে এসব প্রচার করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাঁকে হেয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে দলও বিব্রত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক
এর আগে ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ওই অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবরও প্রকাশিত হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরটি নিয়ে ইশরাক হোসেন আগে প্রকাশ্যে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ ধরনের খবরকে ভিত্তিহীন বলা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তখন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রেসক্লাবে নেতাকর্মীদের ভিড়
সোমবার দুপুর ২টার দিকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে আসেন ইশরাক হোসেন।
তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে প্রেসক্লাব এলাকায় বড় ধরনের জনসমাগম হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে ‘মোবাইল সাংবাদিকদের’ বের হয়ে যেতে বলা হলে এ নিয়েও হট্টগোল তৈরি হয়। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন ইশরাক।
সামনে ঢাকা-৬ এলাকায় কাজ করার কথা
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পরও রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
এর আগে সকালে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও সক্রিয় থাকতে চান। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন জেলা সফরের কথাও জানিয়েছিলেন।
ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে গত কয়েক দিনের আলোচনা ও বিতর্কের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হলো। তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এখন ঢাকা-৬ কেন্দ্রিকভাবে এগোয় কি না, সেটিই নজরে থাকবে।
