সামনে স্থানীয় নির্বাচন, তবুও ইউপিতে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক
ইউপি প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে দেশে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকলেও দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রশাসক করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ৩১১টি ইউনিয়ন নির্বাচনযোগ্য হলেও বেশির ভাগ ইউনিয়নে এখনো নির্বাচন করার সুযোগ নেই।
নির্বাচনের আগে ৩৮ ইউপিতে প্রশাসক নিয়োগ
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত দুই মাসে অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি পুরোনো ইউনিয়ন এবং ৭টি নতুন গঠিত ইউনিয়ন রয়েছে।
নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা। পাশাপাশি কয়েকটি ইউনিয়নে সদস্য পদেও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের সেবা কার্যক্রম চালু রাখতেই এসব প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
নির্বাচন ও প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকার।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, নির্বাচন খুব কাছাকাছি হলে অল্প সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগ না করলেও চলত।
তবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশাসক নিয়োগের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কোথাও সরকারি কর্মকর্তা, কোথাও বিএনপি নেতা
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন খোকনকে প্রশাসক করা হয়েছে। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি ইউনিয়নেও রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিতর্ক এড়াতে কিছু এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদেরও প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশে এখনো বেশির ভাগ ইউনিয়নে নির্বাচন সম্ভব নয়
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী:
- মোট ইউনিয়ন পরিষদ: ৪,৫৮৮টি
- নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়ন: ৩১১টি
- মেয়াদ শেষ না হওয়ায় নির্বাচন করা যাবে না: ৪,২৩৭টি
- মামলা চলমান ইউনিয়ন: ৪০টি
এ কারণে সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মত, দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন দ্রুত হলে অল্প সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজন থাকত না।
তাঁর মতে, সরকারি পদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ বন্ধ করা উচিত এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দিকে সরকারের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচন বিলম্বিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
