রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলা: রায় হয়নি, আবার হবে যুক্তিতর্ক
রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলা আবারও নতুন পর্যায়ে গেছে। সাভারের রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা না করে আদালত পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে মামলাটি রায়ের জন্য প্রস্তুত ছিল।
আদালতের আদেশে আবার যুক্তিতর্কের সুযোগ
ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল।
তবে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর্যায়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় সোহেল রানাসহ ৮ আসামি
রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানা ছাড়াও আরও সাতজন আসামি রয়েছেন।
তাঁরা হলেন—
- সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ
- সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়
- নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম
- সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান
- সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল
- সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম
- লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব
মামলার অন্যতম আসামি সোহেল রানা জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন।
রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহ ঘটনা
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে।
ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আহত হন আরও অনেক শ্রমিক।
ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণকাজ এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কী অভিযোগ ছিল মামলায়
দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়, রানা প্লাজা নির্মাণে অনুমোদিত নকশা ও নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছিল।
প্রথমে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্তের পর ভবন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাঁকেও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা, তাঁর মা-বাবাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিচার শুরুর সময় কয়েকজনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বিচার কার্যক্রম কোথায় দাঁড়িয়ে
২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এখন আবার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
