রাশিয়া–চীন সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় পুতিন ও সির
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের মধ্যে রাশিয়া–চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার দুই নেতা বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এসসিও সম্মেলনে মুখোমুখি পুতিন ও সি
মে মাসের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেন পুতিন ও সি চিন পিং।
বৈঠকের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতার বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বেইজিং ও মস্কোর সম্পর্কের অগ্রগতি ধরে রাখা প্রয়োজন।
সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা
পুতিনও চীনের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধসহ কিছু আন্তর্জাতিক বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই বৈঠক
রাশিয়া ও চীনের এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে উত্তেজনাপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে ইরানকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
এসসিও সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণ
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে একাধিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিয়েছেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন—
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
- তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
এসসিও বর্তমানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
