কৃষক কার্ড: উদ্বোধনের দিন এক লাখ কৃষক পাবেন প্রণোদনার অর্থ
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে দেশের ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি থাকবে।
উদ্বোধনের দিন ফেনীর নিবন্ধিত সব কৃষকসহ দেশের মোট এক লাখ কৃষক প্রণোদনার অর্থ পাবেন। ইতিমধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য নিবন্ধিত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড
কার্ডধারী কৃষকদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে কৃষক কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে। কার্ড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট কৃষকের তথ্য সহজে শনাক্ত করা যাবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, কার্ডের নকশা ও এতে প্রদর্শিত তথ্য ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার পর কিউআর কোড যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীতে হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ফেনীর ফুলগাজীতে। এ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কৃষক কার্ড জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব মো. সেলিম খান জানিয়েছেন, উদ্বোধনের দিন ফেনীসহ ৫০ জেলায় কর্মসূচি থাকবে। একই দিনে এক লাখ কৃষকের কাছে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ওই পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলার প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছিল।
কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—
- নগদ প্রণোদনা
- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ
- সেচসুবিধা
- সহজ শর্তে ঋণ
- কৃষিবিমা
- অন্যান্য সরকারি সহায়তা
কার্ডের আওতায় থাকা ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কথা রয়েছে।
নিবন্ধিত কৃষকের সংখ্যা ১৬ লাখ ৩০ হাজার
‘পার্টনার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। তাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত।
নিবন্ধিতদের মধ্যে প্রায় দেড় শতাংশ মৎস্যচাষি এবং ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ গবাদিপশু পালন করেন। এছাড়া ১৫৭ জন লবণচাষিও এই নিবন্ধনের আওতায় রয়েছেন।
জমির মালিকানার হিসাবে নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাঁদের জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতকের মধ্যে। প্রায় ৪০ শতাংশ প্রান্তিক কৃষকের জমির পরিমাণ ৫ থেকে ৪৯ শতক।
আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই শেষ
নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব ইতিমধ্যে খোলা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন করা হয়েছে।
ফেনীর নিবন্ধিত কৃষকেরা উদ্বোধনের দিন প্রণোদনার অর্থ পাবেন। পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের আওতায় থাকা ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদেরও এই অর্থ দেওয়া হবে।
চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কৃষকদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অর্থ এখনো দাতা সংস্থাগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কৃষক কার্ডের প্রণোদনার জন্য রাজস্ব খাত থেকে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে অর্থ বিভাগ বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
