সীতাকুণ্ডে বিএনপির সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিএনপির সংঘর্ষ হয়েছে। দলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সীতাকুণ্ড পৌর সদর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এক পক্ষ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের দুই পক্ষ একই এলাকায় পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে।
এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন।
একই সময়ে কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টি জানার পর পুলিশ উভয় পক্ষকে আলাদা স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠান করার অনুরোধ জানায়।
দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় গেলে সেখানে অবস্থান নেওয়া কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ঘটনায় কয়েকজন নেতাকর্মীসহ একজন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয়কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মহাসড়ক অবরোধে যানজট
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান নেন।
তাঁদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়।
পরে বিকেল ৪টার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা জানিয়েছে, অবরোধের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
দলীয় সূত্র বলছে, সীতাকুণ্ড বিএনপির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাগে বিভক্ত।
উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
